ছোট গল্পের সংগ্রহ

সতর্কতা: গল্পে রং-চং লাগানো যাবে। তবে কোন ভাবেই, ভায়োলেন্স, লোভ দেখানো, ভয়-ভীতি দেখানো অথবা, মিথ্যা কিছু শিক্ষা দেয় এমন গল্প বাচ্চাদেরকে বলা যাবে না। এমনকি ভুত, জ্বীন-পরি এ ধরণের কোন শব্দ বা ইঙ্গিত গল্পে ব্যবহার করা যাবে না।
  1. গোপন বীজের রহস্য

     নীরা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে সে প্রতিদিন বিকেলে দাদুর বাগানে খেলা করে একদিন হঠাৎ বাগানের এক কোণে মাটির নিচে চকচক করে কিছু একটা দেখতে পেল কৌতূহলী হয়ে খুঁড়ে দেখলোএকটা পুরনো কাঠের বাক্স!

    বাক্সের ওপরে লেখা,
    যে বীজ রোপণ করবে, সে- রহস্য জানবে।

    নীরার চোখ কৌতূহলে বড় বড় হয়ে গেল। বাক্স খুলতেই বের হলো একটা ছোট বীজ আর একটা হলদে চিরকুট। তাতে লেখা

    সূর্য চাই, জল চাই, ধৈর্য চাই, তাহলেই আমি জানাবো কে আমি।

    নীরা ভাবলো, এটা নিশ্চয় কোনো ধাঁধা! সে দাদুকে কিছু না বলে বীজটা একটা টবে পুঁতে দিল। প্রতিদিন সে জল দিতো, রোদে রাখতো, আর অপেক্ষা করতো।

    প্রথম দিন কিছু হলো না।
    দ্বিতীয় দিনেও কিছু না।
    তৃতীয় দিন, একটুখানি চারা বের হলো! নীরা খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।

    কিন্তু গাছটা ধীরে ধীরে বড় হলেও ফুল ফুটছিল না। নীরা প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিল, তখন দাদু বললেন,
    যে গাছকে ভালোবাসবে, সে তোমাকে কিছু না কিছু ফেরত দেবে।

    নীরা আবার যত্ন নিল, কথা বললো গাছটার সাথে, জল দিলো, মাটি পরিষ্কার রাখলো। এক সকালে দেখলোগাছে একটা সোনালি ফুল ফুটেছে!

    ফুলটার ভেতরে ছোট ছোট অক্ষরে লেখা

    ধৈর্যই সবচেয়ে বড় জাদু।

    নীরা হাসলো। সে বুঝলো, রহস্যটা কোনো জাদুর বাক্স নয়, ধৈর্য আর ভালোবাসার শক্তি

    🌼 শিক্ষা: যেকোনো ভালো কাজের ফল পেতে ধৈর্য আর যত্ন দরকার।

  2. হারানো ছায়ার ধাঁধা

    রিফাত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে, রহস্য গল্প পড়তে খুব ভালোবাসে। একদিন রাতে বই পড়তে পড়তে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। রিফাত সঙ্গে সঙ্গে মোমবাতি জ্বালালো।

    কিন্তু তখন সে ভয় পেয়ে গেল—তার ছায়া নেই!
    দেয়ালে, টেবিলে, কোথাও ছায়া দেখা যাচ্ছে না।

    সে ফিসফিস করে বললো, “ছায়া কোথায় গেল?”
    ঠিক তখন টেবিলের ওপর একটা কাগজ দেখা গেল, তাতে লেখা—

    “আমি তোমারই বন্ধু, আলো থাকলে থাকি, অন্ধকারে হারাই না, তবু আজ আমি নেই। খুঁজে দেখো, ভুলটা কোথায়?”

    রিফাত চুপ করে ভাবতে লাগলো। ছায়া তো আলো পেলেই হয়। কিন্তু আলো তো আছে—মোমবাতি জ্বলছে! তাহলে সমস্যা কোথায়?

    সে ধীরে ধীরে ঘরটা পর্যবেক্ষণ করলো। টেবিলের পাশে একটা বড় আয়না রাখা, যা ঠিক মোমবাতির সামনে। মোমবাতির আলো সরাসরি আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে তার পিছনে না গিয়ে অন্যদিকে পড়ছে।

    রিফাত আয়নাটা সরিয়ে মোমবাতিটা ঠিক জায়গায় রাখতেই—তার ছায়া আবার ফিরে এলো!

    সে হেসে উঠলো, “রহস্য সমাধান!”
    তার মা ঘরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি হাসছো কেন?”
    রিফাত বললো, “আজ আমার ছায়া লুকোচুরি খেলতে গিয়েছিল!”

    শিক্ষা: সমস্যায় ভয় না পেয়ে ধৈর্য আর বুদ্ধি দিয়ে ভাবলে সব রহস্যের সমাধান হয়।


  3. নীলচে পাখির অদ্ভুত ডাক

    একদিন সকালে চতুর্থ শ্রেণির তন্ময় তার স্কুলের বাগানে একটা অচেনা পাখি দেখলো। পাখিটার পালক নীলচে, চোখ জ্বলজ্বলে, আর তার ডাক একেবারে আলাদা —

    “চিক... চো-কে... চিক... চো-কে...”

    তন্ময় কাছে যেতেই পাখিটা উড়ে গিয়ে বসলো স্কুলের পুরনো ঘণ্টাঘরে। ঘণ্টার নিচে একটা চকচকে কাগজ ঝুলছিল, তাতে লেখা—

    “যে বুঝবে আমার ডাকের মানে, সে খুঁজে পাবে জ্ঞানের খনি।”

    তন্ময় অবাক! পাখির ডাক কি একটা ধাঁধা?
    সে বসে ভাবতে লাগলো — “চিক... চো-কে...”
    হঠাৎ মনে পড়লো, স্কুলের পুরনো লাইব্রেরি ভবনের পাশে একটা ছোট ঘরে “চক” (chalk) আর “চৌকি” রাখা থাকে। ডাকটা হয়তো ওটার দিকেই ইঙ্গিত করছে!

    তন্ময় দৌড়ে গেলো সেখানে।
    ঘরে ঢুকেই দেখলো, কোণের দেয়ালে একটা পাথরের ওপর লেখা —

    “জ্ঞানকে যে খোঁজে, সে কখনও একা নয়।”

    ঠিক তখন পাখিটা জানালার ধারে বসে ডাকলো, তারপর উড়ে গেল আকাশে।

    তন্ময় হাসলো — বুঝলো, পাখিটা আসলে তাকে পড়ার অনুপ্রেরণা দিতে এসেছিল।

    🕊️ শিক্ষা: জ্ঞান খোঁজার আগ্রহ আর কৌতূহলই সবচেয়ে বড় শক্তি।

  4. সময়ঘড়ির রহস্য

    পঞ্চম শ্রেণির তৃষা খুব নিয়মিত মেয়ে। কিন্তু একদিন তার ঘড়িটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। যতই ব্যাটারি বদলায়, কিছুতেই চলে না।
    ঘড়ির পেছনে ছোট্ট একটা খোদাই করা লেখা ছিল—

    “আমাকে চালু করতে হলে, সময়কে বুঝতে শিখো।”

    তৃষা ভাবলো, এটা নিশ্চয় কোনো ধাঁধা!
    সে দাদুকে দেখালো। দাদু মুচকি হেসে বললেন,
    “সময়কে শুধু দেখা নয়, কাজে লাগানোই আসল কথা।”

    তৃষা সারাদিন ভেবে কাটালো—আজ সে সময় নষ্ট করেছিল অনেক। হোমওয়ার্ক অসম্পূর্ণ, খেলাধুলায় বেশি সময় গেছে।
    সন্ধ্যায় ঠিক করলো, আগামীকাল থেকে সময় অনুযায়ী কাজ করবে।

    পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়লো, ঠিকমতো হোমওয়ার্ক শেষ করলো, আর বিকেলে খেলার পর আবার পড়ায় মন দিলো।

    হঠাৎ দেখে, বন্ধ ঘড়িটা নিজে থেকেই টিক টিক শব্দ করছে!
    তৃষা অবাক হয়ে হাসলো—
    ঘড়িটা যেন বলছে,

    “যে সময়কে সম্মান করে, সময়ও তার পাশে থাকে।”

    শিক্ষা: সময়ের মূল্য বোঝা আর সময়মত কাজ করা সফলতার মূল চাবি।

  5. রঙ বদলানো ফুলের রহস্য

    মিতু প্রতিদিন স্কুল শেষে তার বাড়ির সামনের ফুলের টবে জল দেয়। একদিন হঠাৎ সে দেখে, একটা ফুলের রঙ আগের মতো নেই—গতকাল সাদা ছিল, আজ গোলাপি! সে অবাক হয়ে গেলো। ভাবলো, “এটা কি জাদু?”

    পরদিন আবার ফুলটার রঙ নীলচে হয়ে গেল! তখন মিতুর কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। সে টবের চারপাশে খুঁজে দেখলো, মাটির নিচ থেকে একটা ছোট কাগজ উড়ে উঠেছে। তাতে লেখা—“আমার রঙ বদলায় না, তোমার যত্ন বদলায়।”

    মিতু চুপ করে ভাবলো—সে গতকাল ফুলে জল দেয়নি, আর আজ রঙ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে! পরের দিন ঠিকমতো জল দিলে আবার ফুল উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। রহস্য বুঝে গেলো মিতু।

    সে বুঝলো, প্রকৃতি আমাদের যত্নের ওপরই নির্ভর করে। যদি যত্ন দিই, প্রকৃতি রঙিন হয়ে ওঠে।

    🌸 শিক্ষা: যত্ন আর ভালোবাসাই প্রকৃতিকে সুন্দর রাখে; অবহেলা করলে সৌন্দর্য হারিয়ে যায়।

  6. বইয়ের ভেতর গুপ্ত বার্তা

    রিমা এক বিকেলে তার পুরনো গল্পের বই খুলে দেখে কিছু পৃষ্ঠা অদ্ভুতভাবে মোটা হয়ে আছে। সে কৌতূহলী হয়ে খুলে দেখলো—ভেতরে একটা ছোট নোট! তাতে লেখা—“যে পড়তে জানে, সে খুঁজে পায় আলোর পথ।”

    রিমা ভাবলো, এটা নিশ্চয় কোনো ধাঁধা। পরের পাতায় সে লক্ষ্য করলো কয়েকটি শব্দে হালকা পেন্সিলের দাগ। সে দাগগুলো একসাথে মিলিয়ে পড়লো—“জ্ঞানই আলো।”

    রিমা অবাক হলো। বইটার মাঝখানে আরও একটি বাক্য লেখা ছিল—“পড়ো, বুঝো, আর অন্যকে শেখাও।” তখন সে বুঝলো, এই বইটা হয়তো তার আগের কোনো পাঠকের রেখে যাওয়া বার্তা।

    সেদিন থেকে রিমা প্রতিদিন অন্তত একটি গল্প পড়ে, আর বন্ধুদেরও শেখায় নতুন কিছু। রহস্যটা তার জীবনে জ্ঞানের আলো এনে দিল।

    📚 শিক্ষা: বই শুধু গল্প নয়, বই-ই জ্ঞানের গুপ্তধন — যে পড়ে, সে এগিয়ে যায়।

  7. জোনাকির আলোয় গোপন বার্তা

    এক গ্রীষ্মের রাতে রূপা বারান্দায় বসে জোনাকি দেখছিল। হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো, কয়েকটা জোনাকি একসাথে উড়ে একটা অদ্ভুত আকার তৈরি করছে। মনে হলো তারা কিছু লিখছে—যেনো ইংরেজি ‘L’ আকৃতি! পরের রাতে আবার তারা এসে এবার ‘O’ তৈরি করলো। রূপা প্রতিদিন খেয়াল করতে লাগলো—তারা ধীরে ধীরে “LOVE” বানাচ্ছে!

    সে অবাক হয়ে গেলো। পরদিন বাগানে গিয়ে দেখলো, যে জায়গায় জোনাকিরা ভিড় করে, সেখানে একটা ছোট কাগজ পড়ে আছে। তাতে লেখা—“প্রকৃতিকে ভালোবাসলে, প্রকৃতিও তোমাকে ভালোবাসে।”

    রূপা বুঝলো, ফুলে জল দেওয়া, গাছের যত্ন নেওয়া, পাখিদের খাবার দেওয়া—এসবই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা। সেই রাত থেকে সে প্রতিদিন জোনাকিদের সঙ্গে কথা বলে, বাগানের যত্ন নেয়। আর জোনাকিরা প্রতিদিন রাতে এসে আলোর নাচে মেতে ওঠে।

    🌿 শিক্ষা: প্রকৃতিকে ভালোবাসলে সে তার আলোয় আমাদের জীবনও আলোকিত করে।

  8. হারিয়ে যাওয়া ঘণ্টাধ্বনি

    রিয়াজের গ্রামের স্কুলে প্রতিদিন সকালবেলা একটা পুরনো ঘণ্টা বাজানো হয়। কিন্তু একদিন দেখা গেলো ঘণ্টাটা নেই! সবাই খুঁজছে, কেউ পাচ্ছে না। স্কুলের দেয়ালে তখন হঠাৎ দেখা গেলো চক দিয়ে লেখা একটা ধাঁধা—“আমি বাজি না, তবু সবার মন জাগাই। আমি কে?”

    রিয়াজ ভাবলো—“বাজি না, তবু জাগাই?” সে বুঝলো, এটা নিশ্চয় ‘ভোরের পাখি’। সে গাছের নিচে গেল, আর সত্যি—ঘণ্টাটা ঝুলে আছে গাছে, যেখানে পাখিরা আসে। পাশে একটা নোট—“প্রতিদিন শুধু ঘণ্টা নয়, পাখির গানও শোনো।”

    রিয়াজ হাসলো। সে ঘণ্টা এনে জায়গায় লাগালো, আর পরদিন থেকে সবাইকে পাখির গান শোনার আমন্ত্রণ জানালো।

    🔔 শিক্ষা: শব্দ নয়, মনোযোগই জাগায় মানুষকে। প্রকৃতি আমাদের শেখায় শুনতে।

  9. কাঁদতে থাকা পাথরের রহস্য

    রিয়া ও সায়েম নদীর ধারে খেলতে গিয়ে দেখে, এক পাথর থেকে পানি পড়ছে যেন কাঁদছে! তারা অবাক। রিয়া বললো, “পাথর কি কাঁদে?” পাথরের ওপরে এক লাইন লেখা—“আমার চোখ নেই, তবু আমি কাঁদি। আমি কে?”

    তারা ভাবতে লাগলো। সায়েম চারদিকে খেয়াল করলো, পাথরের ওপর একটা ছোট ফাটল আছে, আর সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে পড়ছে। রহস্য সমাধান!

    রিয়া বললো, “দেখো, প্রকৃতির কান্না মানে বৃষ্টির জল।” তারা বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে গল্পটা বললো। বাবা হাসলেন—“তোমরা বুঝতে পারছো, প্রকৃতির প্রতিটা ঘটনার পেছনে কারণ থাকে।”

    💧 শিক্ষা: রহস্য মানে ভয় নয়—মনোযোগ দিলে উত্তর নিজেরাই চোখে পড়ে।

  10. গোপন ছবির ক্যানভাস

    নিশি আঁকা শেখে। একদিন তার ক্যানভাসে অদ্ভুত একটা দাগ পড়ে গেলো—দেখতে যেন একটা চাবির মতো! সে সেটা ঠিক করতে গিয়ে দেখে, আলো পড়লে দাগটা সোনালি হয়ে জ্বলছে। রাতে জানালার আলোয় ক্যানভাসে লেখা ভেসে উঠলো—“রঙের পেছনে লুকানো আছে সত্য।”

    পরদিন সে সূর্যের আলোয় ছবিটা রেখে দেখলো—দাগগুলো মিলিয়ে একটা নতুন ফুল ফুটে উঠেছে! সে বুঝলো, আলো না পেলে ছবিটা অসম্পূর্ণ।

    তখনই তার শিক্ষক বললেন, “দেখো নিশি, যেভাবে আলোর প্রয়োজন ছবিতে, সেভাবেই জীবনে সত্যের আলো দরকার।”

    🎨 শিক্ষা: জীবনের সৌন্দর্য সত্য ও আলোতে লুকিয়ে থাকে—অন্ধকারে নয়।

  11. সময়ের ঘড়ির ধাঁধা

    তাসনিমের ঘড়িটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। সে যত ব্যাটারি বদলায়, কিছুতেই চলে না। ঘড়ির পিছনে একটা বার্তা খোদাই করা—“আমাকে চালু করতে হলে, সময়কে সম্মান করো।”

    তাসনিম বুঝতে পারলো না। সে সেদিন দেরিতে উঠেছিল, স্কুলেও দেরি হয়েছে। রাতে ঠিক করলো—আগামীকাল সময়মতো ঘুম থেকে উঠবে, সময় মতো পড়বে। পরদিন সব কিছু নিয়মমতো করতেই ঘড়িটা নিজে থেকেই টিক টিক করে উঠলো!

    সে হেসে উঠলো—“সময় আমাকে পরীক্ষা নিচ্ছিল।”

    শিক্ষা: সময়কে সম্মান দিলে জীবন ঠিক ঘড়ির মতোই ছন্দে চলে।

  12. কথা বলা চিঠির বাক্স

    সামিরার বাড়ির সামনে একটা পুরনো চিঠির বাক্স। সবাই ভাবে, সেটা নষ্ট। একদিন সামিরা কৌতূহলবশত একটা কাগজ ঢুকালো তাতে লিখে—“তুমি কি সত্যি কথা বলো?”

    পরদিন সকালে বাক্সের ভেতর একটা নতুন কাগজ—“সত্য সবসময় উত্তর দেয়, শুধু মন দিয়ে শোনো।” সামিরা অবাক! পরে বুঝলো, পাশের বাড়ির ডাকপিয়ন কৌতুক করে চিঠি দিয়েছে।

    সে হেসে ফেললো। কিন্তু সেদিন থেকে সে ঠিক করলো, প্রতিদিন একটুকু ভালো বার্তা লিখে বাক্সে রাখবে—যাতে কেউ পড়ে হাসতে পারে।

    💌 শিক্ষা: ভালো কথা ছড়িয়ে দিলে পৃথিবী আরও সুন্দর হয়।

  13. অদৃশ্য রঙধনুর সেতু

    মেঘলা বৃষ্টির পর আকাশে রঙধনু খুঁজছিল। কিন্তু আজ রঙধনু দেখা যাচ্ছে না। হতাশ হয়ে সে বললো, “আজ আকাশে রঙ হারিয়েছে!” ঠিক তখন বৃষ্টির ফোঁটা জানালায় আঘাত করে, আর জানালার কাঁচে একটুখানি সাত রঙের রেখা ফুটে উঠলো!

    কাঁচের ওপর লেখা—“রঙ কখনও হারায় না, শুধু চোখে ধরা দেয় না।”

    মেঘলা বুঝলো, সৌন্দর্য শুধু চোখে নয়, মনে দেখতে হয়। সে মৃদু হাসলো আর জানালার কাঁচে ছোট্ট একটা হাসির মুখ এঁকে দিলো।

    🌈 শিক্ষা: আনন্দ ও সৌন্দর্য সবসময় আছে, শুধু দেখার দৃষ্টি থাকতে হয়।

  14. লুকানো চকের বার্তা

    শ্রেণিকক্ষের বোর্ডে এক সকালে দেখা গেলো রহস্যময় কিছু লেখা—“আমি মুছে যাই, তবু শেখাই।” সবাই অবাক। শিক্ষিকা হাসলেন, “এই ধাঁধার উত্তর দেবে কে?”

    রুবাইয়া হাত তুললো—“উত্তর হলো চক!” সবাই হাততালি দিলো। শিক্ষিকা বললেন, “ঠিকই বলেছো! চকের মতোই ভালো মানুষরাও নিজেদের মুছে দিয়ে অন্যকে আলোকিত করে।”

    সেই দিন থেকে রুবাইয়া ঠিক করলো, সে বন্ধুদের সাহায্য করবে, যেমন চক বোর্ডকে সাহায্য করে লেখায় ভরিয়ে তোলে।

    🧩 শিক্ষা: জ্ঞান ও দয়ার কাজ সবসময় থেকেই যায়, যদিও মানুষটা থাকে না।

  15. কথা বলা পেন্সিলের রহস্য

    আদ্রির প্রিয় পেন্সিলটা একদিন কথা বলল! রাতে হোমওয়ার্ক করতে গিয়ে সে শুনলো—“আমাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করো, না হলে তোমার লেখা হারিয়ে যাবে।”

    সে অবাক হয়ে পেন্সিলটা টেবিলে রাখলো। সকালে দেখে, গত রাতের লেখা পৃষ্ঠা ফাঁকা! তখন সে বুঝলো, সে গতকাল রাগ করে বইয়ে আঁকিবুঁকি করেছিল। সে ক্ষমা চাইল, মনোযোগ দিয়ে আবার লিখলো—এবার পৃষ্ঠা পূর্ণ!

    ✏️ শিক্ষা: ভালো কাজে মনোযোগ দিলে ফল পাওয়া যায়, রাগে করা কাজ সব নষ্ট করে।

  16. অদ্ভুত ছায়ার খেলা

    রায়হান রাতে পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ সে দেখে, দেয়ালে তার ছায়া দুটি! একটিতে বই ধরা, আরেকটিতে শুধু বসে থাকা। ভয় পেয়ে সে লাইট বন্ধ করলো, তবু ছায়া একটুও নড়ছে না!

    রায়হান সাহস করে আবার লাইট জ্বালালো। এবার সে ঘরটা খুঁটিয়ে দেখলো। খেয়াল করলো, ঘরে একটা টেবিল ল্যাম্প আর পাশে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বলছে। দু’দিকে আলো পড়ায় দুটি ছায়া তৈরি হয়েছে!

    সে হেসে উঠলো, “রহস্যটা তো বিজ্ঞানেই লুকানো ছিল!” ভয় কেটে গেল। সে ভাবলো, আগে যদি ভয় না পেয়ে একটু ভেবে দেখতো, তবে এতটা ঘাবড়াতো না।

    💡 শিক্ষা: ভয় নয়, চিন্তা ও বিজ্ঞান দিয়ে ভাবলে প্রতিটি রহস্যের সমাধান পাওয়া যায়।

  17. পাথরের গুহার ধাঁধা

    তন্বী তার বাবার সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিল। তারা এক অন্ধকার গুহার মুখে এসে দাঁড়ালো। সেখানে এক বড় পাথরে খোদাই করা ছিল—“আমি কথা বলি না, তবু অনেক কিছু শোনাই। আমি কে?”

    তন্বী একটু ভয় পেলেও ধীরে ধীরে গুহার ভেতরে গেল। “হ্যালো!” বলে চিৎকার করতেই ভেতর থেকে তারই কণ্ঠ ফিরে এলো — “হ্যালো!” সে চমকে উঠলো, তারপর হাসলো—উত্তরটা হলো প্রতিধ্বনি!

    বাবা বললেন, “দেখলে, প্রকৃতি নিজেই শিক্ষা দেয়। ভয় পেলে কিছুই শেখা যায় না।” তন্বী গুহার মুখে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবলো, পৃথিবীটা সত্যিই রহস্যে ভরা!

    🪨 শিক্ষা: ভয় নয়, কৌতূহল আর সাহস রাখলে প্রকৃতি থেকেই শেখা যায় অনেক কিছু।

  18. হারিয়ে যাওয়া রঙের বাক্স

    পিয়া আঁকতে খুব ভালোবাসে। একদিন সকালে আঁকার সময় হঠাৎ দেখে তার প্রিয় রঙের বাক্স নেই। সে ঘরজুড়ে খুঁজেও পায় না। দেওয়ালে হালকা করে লেখা—“যা দাও, তাই ফিরে পাও।”

    সে মনে করলো, গতকালই তো সে বন্ধু তানিয়ার রঙ চেয়ে নিয়েছিল, কিন্তু ফেরত দেয়নি। সঙ্গে সঙ্গে তানিয়ার বাড়িতে গিয়ে রঙটা ফিরিয়ে দিলো।

    বাড়ি ফিরে এসে দেখে, তার রঙের বাক্সটা টেবিলের ওপর রাখা! রহস্য সমাধান! সে বুঝলো, সততা ও ফেরত দেওয়ার অভ্যাসই সবচেয়ে বড় রঙ।

    🎨 শিক্ষা: সততা ও দায়িত্ববোধ মানুষকে সবচেয়ে রঙিন ও সুন্দর করে তোলে।

  19. হারানো টিফিন বক্সের রহস্য

    মিতুর মন খুব খারাপ। স্কুলে এসে দেখল, তার ব্যাগ থেকে প্রিয় টিফিন বক্সটা উধাও! ওটা তার জন্মদিনের উপহার ছিল। সে তার বন্ধু রাজুকে জিজ্ঞেস করল, "তুমি আমার বক্সটা দেখেছ?" রাজু মাথা নেড়ে 'না' বলল, কিন্তু তার মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাসে লাগছিল। মিতুর সন্দেহ হলো। টিফিন পিরিয়ডে মিতু দেখল, রাজু গাছের আড়ালে লুকিয়ে কিছু একটা খাচ্ছে। মিতু কাছে যেতেই রাজু চমকে উঠল। তার হাতে মিতুর সেই টিফিন বক্স! রাজুর চোখে জল। সে বলল, "আমার বক্সটা ভেঙে গেছে, তাই না বলে তোমারটা নিয়েছিলাম। আমি খুব দুঃখিত।" মিতু অবাক হলো। সে জানত না বলে কিছু নেওয়া ঠিক না, কিন্তু বন্ধুর সততা দেখে তার ভালো লাগল। সে রাজুকে ক্ষমা করে দিল এবং নিজের টিফিন থেকে তাকে ভাগ দিল।

    ধাঁধা: আমি তোমার পেটের ক্ষুধা মিটাই, কিন্তু আমার নিজের পেটে ক্ষুধা নেই। আমি কে?
    উত্তর: টিফিন বক্স।

    শিক্ষা: না বলে অন্যের জিনিস নেওয়া উচিত নয় এবং ভুল করলে সততার সাথে স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

  20. জোনাকি পোকার আলোর ধাঁধা

    ছোট্ট খরগোশ বুনি রাতে একা বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ সে দেখল, ঝোপের মধ্যে কারা যেন মিটমিট করে আলো জ্বেলে ভয় দেখাচ্ছে। বুনির তো ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল! সে ভাবল, নির্ঘাত এটা ভূতের কাজ। সে এক দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে কাঁদতে লাগল। মা সব শুনে হাসলেন আর বললেন, "চলো, আজ তোমার ভয় ভাঙিয়ে দিই।" মা তাকে নিয়ে আবার সেই ঝোপের কাছে গেলেন। বুনি দেখল, আলো-নেভা খেলাটা তখনো চলছে। মা একটি আলো আলতো করে হাতে ধরলেন। বুনি অবাক হয়ে দেখল, ওটা কোনো ভূত নয়, ছোট্ট একটা পোকা! মা বললেন, "এদের জোনাকি পোকা বলে। এরা রাতের আঁধারে নিজেদের পথ দেখানোর জন্য আলো জ্বালে।" বুনির ভয় কেটে গিয়ে এবার বিস্ময় জাগল। সে প্রকৃতির এই সুন্দর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল।

    ধাঁধা: আমার শরীর আছে, প্রাণও আছে, কিন্তু কোনো শব্দ করি না। রাতের আঁধারে আলো জ্বেলে ঘুরি। আমি কে?
    উত্তর: জোনাকি পোকা।

    শিক্ষা:ভূতটুত কিছু নেই। কোনো কিছু না জেনে তাকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আসল সত্যিটা জানলে ভয় কেটে গিয়ে আনন্দ হতে পারে।

  21. বাগানের রঙিন চোর

    টিনার খুব শখের ফুলের বাগান। কিন্তু কয়েক দিন ধরে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন সকালে সে দেখে, তার সবচেয়ে সুন্দর ফুলগুলো কে যেন ছিঁড়ে নিয়ে যায়। টিনা ভাবল, "চোর ধরতেই হবে!" পরদিন সে খুব ভোরে উঠে বাগানে লুকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ পর সে দেখল, এক ঝাঁক রঙিন ডানাওয়ালা প্রাণী উড়ে এসে তার ফুলগুলোর উপর বসছে। ওরা ফুল ছিঁড়ছে না, বরং ফুল থেকে কী যেন খাচ্ছে আর এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছে। টিনা অবাক হয়ে গেল। এরা তো চোর নয়, এরা তো খুব সুন্দর! সে দৌড়ে তার দাদুর কাছে গেল। দাদু সব শুনে বললেন, "ওরা চোর নয়, ওরা প্রজাপতি। ওরা ফুলের মধু খায় আর আমাদের পরিবেশের উপকার করে।" টিনা বুঝল, সে ভুল ভেবেছিল। এরপর থেকে প্রজাপতিদের দেখলে তার খুব আনন্দ হতো।

    ধাঁধা: আমার ডানা আছে কিন্তু আমি পাখি নই, আমি রঙ ভালোবাসি কিন্তু শিল্পী নই। ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াই। আমি কে?
    উত্তর: প্রজাপতি।

    শিক্ষা: যা দেখছি, সেটাই সবসময় সত্যি নাও হতে পারে। প্রকৃতির প্রতিটি জীবের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে।

  22. নদীরূপী বন্ধুর কান্না

    রূপপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যেত কলকল শব্দের এক নদী। গ্রামের সবাই তাকে বন্ধুর মতোই ভালোবাসত। কিন্তু হঠাৎ করে নদীর জল ঘোলা হতে শুরু করল, মাছগুলো মরে যেতে লাগল। নদীর সেই আগের কলকল শব্দটাও যেন কান্নার মতো শোনাল। গ্রামের ছোট্ট ছেলে অপু খুব চিন্তায় পড়ল। তার বন্ধু নদীটার কী হয়েছে? সে তার দাদুকে জিজ্ঞেস করল। দাদু বললেন, "আমরাই তো আমাদের বন্ধুর কষ্ট বাড়াচ্ছি। সবাই বাড়ির ময়লা, আবর্জনা আর কারখানার নোংরা জল নদীতে ফেলছে। তাই তো নদীর জল বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে।" অপু সব বুঝতে পারল। সে তার বন্ধুদের জড়ো করল। তারা সবাই মিলে বড়দের বোঝাতে শুরু করল, নদীতে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। সবাই তাদের ভুল বুঝতে পারল। ধীরে ধীরে নদীটা আবার আগের মতো স্বচ্ছ আর সুন্দর হয়ে উঠল।

    ধাঁধা: আমি চলি কিন্তু আমার পা নেই, আমি কাঁদি কিন্তু আমার চোখ নেই। আমার বুকে নৌকা ভাসে। আমি কে?
    উত্তর: নদী।

    শিক্ষা: আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখা আমাদেরই দায়িত্ব। আমরা পরিবেশের যত্ন নিলে, পরিবেশও আমাদের যত্ন নেবে।

  23. চাঁদের লুকোচুরি খেলা

    ছোট্ট ভালুক ভুলু প্রতিদিন রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। তার একটাই প্রশ্ন, "চাঁদটা প্রতিদিন এমন লুকোচুরি খেলে কেন?" কোনো দিন সে দেখে গোল থালার মতো চাঁদ, আবার কোনো দিন দেখে অর্ধেক। মাঝে মাঝে তো চাঁদকে খুঁজেই পাওয়া যায় না! একদিন সে তার মা-কে জিজ্ঞেস করল, "মা, চাঁদটা কি আমাদের উপর রাগ করে লুকিয়ে পড়ে?" মা হেসে বললেন, "না সোনা, চাঁদ রাগ করে না। এটা পৃথিবীর চারপাশে ঘোরার একটা খেলা। পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। তাই আমরা চাঁদকে দেখতে পাই না, বা কখনও কখনও অল্প দেখতে পাই।" ভুলু অবাক হয়ে শুনল। সে বুঝল, এটা কোনো রাগ বা অভিমানের খেলা নয়, এটা প্রকৃতির একটা নিয়ম। এরপর থেকে চাঁদের এই খেলা দেখতে তার আরও ভালো লাগত।

    ধাঁধা: আমি দিনে ঘুমাই, রাতে জাগি। কখনো গোল থালা, কখনো রুপোর কাস্তে। আমি কে?
    উত্তর: চাঁদ।

    শিক্ষা: পৃথিবীর অনেক কিছুই নির্দিষ্ট নিয়মে চলে। জ্ঞান আমাদের কৌতূহল মেটায় এবং ভুল ধারণা দূর করে।

  24. অদৃশ্য চিত্রকরের রহস্য

    প্রতি শীতের সকালে তুতুল ঘুম থেকে উঠে একটা অদ্ভুত জিনিস দেখত। তার জানালার কাচে কে যেন সুন্দর সাদা নকশা এঁকে দিয়ে যেত। ফুলের মতো, পাতার মতো দেখতে সেই নকশাগুলো রোদের আলোয় ঝলমল করত। তুতুল ভাবত, "কে এই শিল্পী, যে রোজ রাতে এসে আমার জানালায় ছবি এঁকে দিয়ে যায়?" সে তার মাকে জিজ্ঞেস করল। মা বললেন, "এই শিল্পী চোখে দেখা যায় না।" তুতুল আরও অবাক হলো! পরদিন রাতে সে জেগে থাকার চেষ্টা করল, কিন্তু ঘুমের ঘোরে কখন যে সকাল হয়ে গেল, সে টেরই পেল না। সকালে উঠে দেখল, জানালায় আগের মতোই সুন্দর ছবি আঁকা। তখন মা তাকে বুঝিয়ে বললেন, "রাতে যখন খুব ঠান্ডা পড়ে, তখন বাতাসের জলকণা জমে গিয়ে বরফ হয়ে যায়। সেই বরফই তোমার জানালায় এমন সুন্দর নকশা তৈরি করে।" তুতুল বুঝল, এই শিল্পী আর কেউ নয়, স্বয়ং প্রকৃতি।

    ধাঁধা: আমি জল কিন্তু জমে যাই, আমি আঁকি কিন্তু আমার হাত নেই। শীতে আমার দেখা মেলে। আমি কে?
    উত্তর: শিশির বা বরফ।

    শিক্ষা: প্রকৃতি নিজেই একজন বড় শিল্পী এবং তার সৌন্দর্য আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে।

  25. মধুর চাকের গুপ্তধন

    কালু নামের এক ভালুক ছানা শুনেছিল, বনের গভীরে নাকি সবথেকে মিষ্টি গুপ্তধন লুকানো আছে। সেই গুপ্তধনের খোঁজে সে বেরিয়ে পড়ল। হাঁটতে হাঁটতে সে একটা গুনগুন শব্দ শুনতে পেল। শব্দটা আসছিল একটা বড় গাছের মগডাল থেকে। সে দেখল, হাজার হাজার ছোট ছোট পোকা একটা অদ্ভুত দেখতে বাসায় ঢুকছে আর বের হচ্ছে। কালুর খুব লোভ হলো। সে ভাবল, "নিশ্চয়ই এর ভেতরেই আছে সেই মিষ্টি গুপ্তধন!" যেই না সে গাছে চড়ে বাসায় হাত দিতে গেছে, অমনি কয়েকটা পোকা এসে তার নাকে হুল ফুটিয়ে দিল। কালু ব্যথায় "মাগো!" বলে চিৎকার করে নেমে এল। তার মা দূর থেকে ছুটে এসে বললেন, "এরা মৌমাছি। অনেক পরিশ্রম করে ওরা ফুল থেকে মধু এনে এই বাসায় জমায়। এটাই বনের মিষ্টি গুপ্তধন। কিন্তু ওদের অনুমতি ছাড়া নিলে তো ওরা রাগ করবেই।" কালু বুঝল, मेहनतের জিনিস কত মূল্যবান হয়।

    ধাঁধা: আমরা দলে থাকি, বাসা বানাই। মানুষের জন্য মিষ্টি বানাই, কিন্তু হুল ফুটালে ব্যথাও দিই। আমরা কারা?
    উত্তর: মৌমাছি।

    শিক্ষা: কঠোর পরিশ্রমের ফল সবসময় মিষ্টি হয় এবং অন্যের পরিশ্রকে সম্মান করা উচিত।

  26. রংধনুর সাত রঙের রহস্য

    একদিন বিকেলে খুব বৃষ্টি হলো। বৃষ্টি থামার পর রিমি আর ঝিমি দেখল, আকাশে বিশাল এক রঙিন সেতু তৈরি হয়েছে! সাত-সাতটা রঙ তাতে— বেগুনী, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল। ওরা তো অবাক! ঝিমি বলল, "আচ্ছা, এই সেতুটা কারা বানাল? এটা দিয়ে কি স্বর্গে যাওয়া যায়?" রিমি বলল, "চলো, আমরা সেতুর শেষ মাথাটা খুঁজে বের করি। সেখানে নিশ্চয়ই কোনো গুপ্তধন আছে।" ওরা হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু যতই এগোয়, রংধনুটাও যেন ততই দূরে সরে যায়। কিছুতেই তাকে ধরা যায় না। ক্লান্ত হয়ে ওরা দাদুর কাছে গেল। দাদু সব শুনে বললেন, "রংধনু হলো আলো আর জলের ফোঁটার খেলা। বৃষ্টির পর যখন সূর্যের আলো জলের কণার মধ্যে দিয়ে যায়, তখন তা ভেঙে গিয়ে এমন সাতটা রঙ তৈরি করে। একে ছোঁয়া যায় না, কিন্তু এর সৌন্দর্য মনকে ভরিয়ে দেয়।" ওরা বুঝল, কিছু জিনিস ধরার জন্য নয়, শুধু উপভোগ করার জন্য।

    ধাঁধা: আমার জন্ম আকাশে, বৃষ্টি আর রোদের খেলায়। আমার বুকে সাতটি রঙ, কিন্তু আমাকে ছোঁয়া যায় না। আমি কে?
    উত্তর: রংধনু।

    শিক্ষা: প্রকৃতির সব সৌন্দর্য ধরার বা পাওয়ার জন্য নয়, কিছু সৌন্দর্য শুধু মন দিয়ে উপভোগ করতে হয়।

  27. কথা বলা টিয়াপাখির ধাঁধা

    চন্দনপুর গ্রামের শেষে ছিল এক পুরোনো বটগাছ। গ্রামের লোকেরা বলাবলি করত, ওই গাছে নাকি এক অদৃশ্য আত্মা থাকে, যে মাঝে মাঝে কথা বলে। একদিন গ্রামের কয়েকজন লোক ওই গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় শুনল, কে যেন স্পষ্ট করে বলছে, "বিপদ আসছে, সবাই সাবধান!" সবাই তো ভয়ে দৌড়ে পালাল। এই রহস্যময় কথার উৎস কেউ খুঁজে পেল না। গ্রামের ছোট্ট ছেলে রাজুর খুব কৌতূহল হলো। সে ঠিক করল, সে আসল ঘটনাটা জানবে। পরদিন সে লুকিয়ে গাছের আড়ালে অপেক্ষা করতে লাগল। দুপুরবেলা সে আবার সেই একই কণ্ঠ শুনতে পেল, "রাজু খুব ভালো ছেলে।" রাজু চমকে এদিক-ওদিক তাকাল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল গাছের ডালে বসা একটা সবুজ টিয়াপাখির দিকে। পাখিটাই মানুষের মতো করে কথা বলছে! আসলে, গ্রামের এক জাদুকর তার পোষা টিয়াটাকে কথা বলা শিখিয়েছিল। পাখিটা খাঁচা থেকে উড়ে ওই গাছে এসে থাকত আর শোনা কথাগুলো বলত। রাজুর সাহসের জন্য গ্রামের সবাই আসল সত্যিটা জানতে পারল।

    ধাঁধা: আমি মানুষের মতো কথা বলি কিন্তু মানুষ নই। সবুজ আমার গায়ের রঙ, লাল আমার ঠোঁট। আমি কে?
    উত্তর: টিয়াপাখি।

    শিক্ষা: সব কথা বিশ্বাস করার আগে তার উৎস খুঁজে বের করা উচিত। সাহস আর কৌতূহল আমাদের সত্যিটা জানতে সাহায্য করে।

  28. আজব ছাতার রহস্য

    বর্ষার এক সকালে ছোট্ট শেয়াল ছট্টু বনের মধ্যে ঘুরতে বেরিয়েছিল। সে দেখল, ভেজা মাটির উপর সারি সারি অদ্ভুত ছাতা গজিয়েছে। লাল, হলুদ, সাদা—নানা রঙের সেই ছাতাগুলো দেখতে ভারি সুন্দর। ছট্টু ভাবল, "কাল রাতে তো খুব বৃষ্টি হয়েছে। নিশ্চয়ই বনের পরীরা তাদের ছাতাগুলো এখানে ফেলে গেছে!" সে একটা সুন্দর লাল ছাতা তুলতে গেল। যেই না সে ওটা ধরেছে, অমনি ছাতাটা ভেঙে গেল। ছট্টুর মন খারাপ হয়ে গেল। সে দেখল, ছাতাগুলোর কোনো হাতল নেই, আর সেগুলো মাটি থেকে গজিয়েছে। এটা কেমন ছাতা? তখন সেই পথ দিয়ে এক জ্ঞানী কচ্ছপ যাচ্ছিল। ছট্টুকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে সে জিজ্ঞেস করল, "কী হয়েছে, ছট্টু?" ছট্টু সব খুলে বলল। কচ্ছপ হেসে বলল, "আরে বোকা, এগুলো পরীর ছাতা নয়। এদের নাম ব্যাঙের ছাতা। এরা এক ধরনের গাছ, যা বৃষ্টি হলে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে।" ছট্টু অবাক হয়ে গেল। সে প্রকৃতির এই নতুন বন্ধুর সাথে পরিচিত হয়ে খুব খুশি হলো।

    ধাঁধা: আমার পা আছে কিন্তু জুতো পরি না, আমার মাথায় টুপি কিন্তু আমি মানুষ না। বৃষ্টি হলে আমি জন্মাই। আমি কে?
    উত্তর: ব্যাঙের ছাতা।

    শিক্ষা: পৃথিবীর প্রতিটি জীবের নিজস্ব পরিচয় ও গুরুত্ব আছে। নতুন কিছু শিখলে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে।

  29. জ্ঞানী পেঁচার সমাধান

    এক দিন সুন্দরবনের পশুদের মধ্যে ভীষণ ঝগড়া লাগল। হাতি বলল, "আমিই সেরা, কারণ আমার সবচেয়ে বেশি শক্তি।" হরিণ বলল, "মোটেই না, আমি সেরা কারণ আমি সবচেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারি।" বানর বলল, "আমি সেরা, কারণ আমি লাফিয়ে গাছে চড়তে পারি।" তাদের ঝগড়া আর থামেই না। তখন বনের সবচেয়ে পুরোনো গাছ থেকে এক গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল, "আজ রাতে সবাই আমার কাছে এসো, আমি তোমাদের সমস্যার সমাধান করে দেব।" সবাই অবাক! কে কথা বলল, দেখা গেল না। রাতে সবাই ভয়ে ভয়ে সেই গাছের নিচে জড়ো হলো। তখন গাছের ডালে বসা এক পেঁচা তার বড় বড় চোখ মেলে তাকাল। সে বলল, "তোমাদের মধ্যে কেউই একা সেরা নও। যখন বনে আগুন লাগে, তখন হরিণের দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা কাজে লাগে। যখন ফল পাড়তে হয়, তখন বানরের গাছে চড়ার দক্ষতা দরকার। আর যখন रास्ता থেকে গাছ সরাতে হয়, তখন হাতির শক্তি প্রয়োজন।" পশুরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারল। তারা বুঝল, সবাই মিলেমিশেই সেরা।

    ধাঁধা: আমি দিনে ঘুমিয়ে কাটাই, কিন্তু রাতে আমার জ্ঞান জাগে। বড় বড় আমার চোখ, আমি বনের পাহারাদার। আমি কে?
    উত্তর: পেঁচা।

    শিক্ষা: প্রত্যেকের নিজস্ব গুণ আছে। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা না করে, একে অপরকে সম্মান ও সহযোগিতা করা উচিত।