নীরা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সে প্রতিদিন বিকেলে দাদুর বাগানে খেলা করে। একদিন হঠাৎ বাগানের এক কোণে মাটির নিচে চকচক করে কিছু একটা দেখতে পেল। কৌতূহলী হয়ে খুঁড়ে দেখলো—একটা পুরনো কাঠের বাক্স!
বাক্সের
ওপরে লেখা,
“যে বীজ রোপণ করবে, সে-ই রহস্য জানবে।”
নীরার
চোখ কৌতূহলে বড় বড় হয়ে
গেল। বাক্স খুলতেই বের হলো একটা
ছোট বীজ আর একটা
হলদে চিরকুট। তাতে লেখা—
“সূর্য
চাই, জল চাই, ধৈর্য
চাই, তাহলেই আমি জানাবো কে
আমি।”
নীরা
ভাবলো, এটা নিশ্চয় কোনো
ধাঁধা!
সে দাদুকে কিছু না বলে
বীজটা একটা টবে পুঁতে
দিল। প্রতিদিন সে জল দিতো,
রোদে রাখতো, আর অপেক্ষা করতো।
প্রথম
দিন কিছু হলো না।
দ্বিতীয় দিনেও কিছু না।
তৃতীয় দিন, একটুখানি চারা
বের হলো! নীরা খুশিতে
লাফিয়ে উঠলো।
কিন্তু
গাছটা ধীরে ধীরে বড়
হলেও ফুল ফুটছিল না।
নীরা প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিল,
তখন দাদু বললেন,
“যে গাছকে ভালোবাসবে, সে তোমাকে কিছু
না কিছু ফেরত দেবে।”
নীরা
আবার যত্ন নিল, কথা
বললো গাছটার সাথে, জল দিলো, মাটি
পরিষ্কার রাখলো। এক সকালে দেখলো—গাছে একটা সোনালি
ফুল ফুটেছে!
ফুলটার
ভেতরে ছোট ছোট অক্ষরে
লেখা—
“ধৈর্যই
সবচেয়ে বড় জাদু।”
নীরা
হাসলো। সে বুঝলো, রহস্যটা
কোনো জাদুর বাক্স নয়, ধৈর্য আর ভালোবাসার শক্তি।
🌼 শিক্ষা:
যেকোনো ভালো কাজের ফল
পেতে ধৈর্য আর যত্ন দরকার।